এ পদক্ষেপের লক্ষ্য জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতির সীমাবদ্ধতা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার আরেকটি ধাপ হিসেবেই একে দেখা হচ্ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘কোনো একক দেশ এখন নিজের শান্তি ও নিরাপত্তা একা নিশ্চিত করতে পারে না। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।’
নতুন নীতির আওতায় আগের পাঁচটি রফতানি শ্রেণি বাতিল করা হয়েছে। আগে উদ্ধার, পরিবহন, সতর্কীকরণ, নজরদারি ও মাইন অপসারণ সরঞ্জামের মধ্যেই অধিকাংশ রফতানি বিধিনিষেধের আওতায় ছিল। এখন প্রতিটি রফতানি চুক্তি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
তবে জাপান তিনটি মূল নীতি বহাল রাখছে—কঠোর যাচাই-বাছাই, তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতে জড়িত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।
জাপানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পোল্যান্ড থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ জাপানের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক চুক্তিগুলোর মধ্যে ব্যবহৃত যুদ্ধজাহাজ ফিলিপাইনে রফতানির বিষয়টি থাকতে পারে।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো এ পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ‘উচ্চমানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম’ পাওয়ার সুযোগ দেবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।
ফিলিপাইন ও জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপমালা মিলে গঠিত ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’কে সাধারণত কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে দেখা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলটি চীনের উপকূলীয় জলসীমা থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে।
চীনের প্রভাব বাড়তে থাকায় ম্যানিলা ও টোকিওর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক কার্যক্রম সহজ করতে একটি চুক্তি সই করে এবং জানুয়ারিতে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়ের নিয়ম শিথিল করে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাপানস্থ রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাস বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ শুধু জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের অংশীদার দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও স্বাধীনতা রক্ষার যৌথ সক্ষমতাও জোরদার করবে।’
টোকিও আশা করছে, প্রতিরক্ষা রফতানি বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, ইউনিটপ্রতি খরচ কমবে এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য শিল্প সক্ষমতা জোরদার হবে।
মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজসহ জাপানি কোম্পানিগুলো সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হলেও এতদিন মূলত দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর সীমিত ক্রয়াদেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় জাপান এরই মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন কেনার মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছাকাছি দ্বীপগুলো ঘিরে। যদিও বেইজিং বলছে, পূর্ব এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলে তাদের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ।
এছাড়া ব্রিটেন ও ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে জাপান, যার লক্ষ্য উন্নয়ন ব্যয় ভাগাভাগি ও নতুন প্রযুক্তি অর্জন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। নতুন নিরাপত্তা কৌশল ঘোষণার সময় চলতি বছর আরো ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
